Hook
More breakout videos from this creator.
২০-২৫ হাজার টাকায় ইউজড মার্কেটে আমাকে যদি একটা আইফোন চুজ করতে বলা হয়, তাহলে আমার ফার্স্ট চয়েস হবে আইফোন ১২। এখন অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, ২০২৬ সালে এসে অলমোস্ট পাঁচ বছর পুরোনো একটা ফোনকে আমি কেন বেস্ট বলতেছি? কারণটা খুবই সিম্পল। আইফোন ১২ এখনো এমন কিছু জিনিস অফার করে যেটা এই প্রাইস সেগমেন্টে অনেক নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোনও অফার করতে পারে না। এর ক্যামেরা, পারফরম্যান্স, ডিসপ্লে এক্সপেরিয়েন্স, এন্ড সবচেয়ে বড় কথা এর রিসেল ভ্যালু। সবকিছু মিলিয়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা প্রাইস রেঞ্জে আইফোন ১২ কিন্তু একটা খুব স্ট্রং প্যাকেজ। বিশেষ করে স্টুডেন্ট অথবা টিনেজারদের কাছে আইফোনের কিন্তু একটা আলাদা অ্যাট্রাকশন আছে। একটা আইফোন থাকলে সোশ্যাল সার্কেলে একটা ডিফারেন্ট ইম্প্রেশন তৈরি হয়। আর এর পাশাপাশি আইফোনের ছবি এবং ভিডিও কোয়ালিটি নিয়ে ইউজারদের মধ্যে একটা আলাদা ট্রাস্ট আছে, যেটা এখনো অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে এগিয়ে। তবে শুধু ইমোশনের উপর বেস করেই তো আর ফোন কেনা যায় না। সেইম বাজেটে মার্কেটে অন্য কি পপুলার অপশনসগুলা আছে সেটা একটু দেখে নেই। ওয়েল, ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা প্রাইস রেঞ্জে একদম ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের পারফরম্যান্স দেয় এমন কিছু ফোন হলো গুগল পিক্সেল ৬ প্রো, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ২১ এফই এন্ড সিএমএফ ফোন ২ প্রো। তবে পিক্সেল ৬ প্রো এর সবচেয়ে বড় ইস্যু হচ্ছে নেটওয়ার্ক ইস্যু, ডিসপ্লে ইস্যু অথবা রিফারবিশড হয়, আর সবচেয়ে বড় কথা রিসেল ভ্যালু একদম নাই বললেই চলে। তারপর এস ২১ এফই এর পারফরম্যান্স ভালো, ক্যামেরাও মোটামুটি ভালো, তবে ইউজড মার্কেটে এর কিছু ইস্যুস আছে। অর্থাৎ লং টার্ম চিন্তা করলে আমি এই ফোনটার ব্যাপারে একটু কনশাস থাকবো। আর তারপর আছে সিএমএফ ফোন ২ প্রো। যদিও এটা একটা মিডরেঞ্জ লেভেলের ফোন, এর পারফরম্যান্স একেবারে ফ্ল্যাগশিপ লেভেলে হবে না, তবুও এর সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স বা ডিজাইনের দিক থেকে কিছুটা বেটার। কিন্তু ওভারঅল ক্যামেরা এন্ড ফ্ল্যাগশিপ লাইক এক্সপেরিয়েন্স দেওয়ার জন্য এটা আইফোন ১২ এর সাথে কোনোভাবেই কম্পিট করতে পারে না। কিন্তু মার্কেটে অলরেডি অনেক অপশনস আছে আই নো, বাট আমরা এখানে সেই ফোনগুলো নিয়েই কথা বলেছি যেগুলোর প্রসেসর একটু ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের এক্সপেরিয়েন্স দেয় এন্ড মোটামুটি সবাই এই ফোনগুলোর ব্যাপারে ফ্যামিলিয়ার। এখন আসি মূল প্রশ্নে। এই সবগুলো ফোন টপকাই কেন আমি আইফোন ১২ ই চুজ করবো? তাহলে প্রথমেই আসি ক্যামেরা সেগমেন্টে। কারেন্ট জেনারেশনের ইউজারদের কাছে ফোনের ক্যামেরা কিন্তু অনেক বড় একটা প্রায়োরিটি। আর ঠিক এই জায়গায় আইফোন ১২ এর ক্যামেরা আনবিটেবল। আর এর ক্যামেরা থেকে আপনি পাবেন ৪কে ৬০ এফপিএস এর ভিডিও রেকর্ডিং, ন্যাচারাল লুকিং পোর্ট্রেট এন্ড ডেলাইট ফটোগ্রাফিতে এমন একটা ব্যালেন্সড আউটপুট পাবেন যেটা বেশিরভাগ মানুষের চোখে আই-প্লিজিন লাগবে। হ্যাঁ, এখানে একটা লিমিটেশনস আছে সেটা হচ্ছে এখানে কোনো টেলিফটো লেন্স নাই। তবে অ্যাপেলের যে অ্যাডভান্স সফটওয়্যার প্রসেসিং সিস্টেম, এতে ১এক্স পোর্ট্রেটে তোলা ছবিগুলোও কিন্তু খুবই ন্যাচারাল লাগে। ক্যামেরাতে আরেকটা বিষয় হচ্ছে কনসিস্টেন্সি। আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরার কালার, লেন্স সুইচিং, ক্যামেরা অ্যাপ এক্সপেরিয়েন্স, সব জায়গায় আপনি বুঝতে পারবেন এটা একটা ফ্ল্যাগশিপ ফোন। তবে ছবি তোলার বিষয়টা শুধুমাত্র নাম্বার স্পেকস দিয়ে বিচার করলেই হবে না, টোটাল ইকোসিস্টেমটাও এখানে একটা ভাইটাল রোল প্লে করে। এরপর আসি ডিসপ্লেতে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আপনি হয়তো পাবেন হায়ার রিফ্রেশ রেট, কার্ভড ডিসপ্লে, থিনার বেজেলের মতো ফিচারস। বাট আপনি যদি চান একটা ব্যালেন্সড কালার একুরেট স্মুথ এবং রিলায়েবল একটা ডিসপ্লে এক্সপেরিয়েন্স, তাহলে আইফোন ১২ এখানে একটা সলিড পজিশন নিয়ে আছে। তাছাড়াও অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সফটওয়্যার বেসড ফেস আনলকের চাইতে আইফোনের ফেস আইডিটা কিন্তু অনেক বেশি সিকিউর। তবে আইফোন ১২ কিনলে সবচেয়ে বড় ধরাটা যেই জায়গায় খাবেন সেটা হচ্ছে এর ব্যাটারি ব্যাকআপ। আমার সোজা কথা, আপনি যদি দিনে একবার এবং রাতে একবার ফোন চার্জ দেওয়ার মেন্টালিটি না থাকে, অথবা আপনি এমন কোনো কাজ করেন যে আপনার ফোন চার্জ দেওয়ার তেমন কোনো সুযোগ নাই, তাহলে আইফোন ১২ আপনার জন্য না। এই একটা মেজর প্রবলেম আপনাকে ভালোই ভোগাবে। আর তাছাড়াও এই মডেলটা লঞ্চ হয়েছে অলমোস্ট পাঁচ বছর হয়ে গেছে। সো প্রত্যেকটা ফোন মিনিমাম তিন থেকে চার বছর ইউজ হয়েছে। আর একটা ফোন এতদিন ইউজ করার পর এর ব্যাটারি হেলথ ৭০ থেকে ৮০ পারসেন্টের উপরে থাকা কোনোভাবেই সম্ভব না। সো বুঝতেই পারতেছেন এই ফোনটা কিনলে ব্যাটারি ব্যাকআপ নিয়ে ভালোই প্যারা খাবেন। বাট ওয়েট, ভয় পায়েন না। স্টিল উই হ্যাভ এ রিজন টু বাই এন আইফোন ১২। আপনি একটা ছোট্ট সাইজের পাওয়ার ব্যাংক ইউজ করতে পারবেন এন্ড গুড নিউজ ইজ আইফোন ১২ কিন্তু ম্যাগসেফ চার্জিং সাপোর্ট করে। সো ম্যাগসেফ এনাবল একটা পাওয়ার ব্যাংক ফোনের পেছনে যদি এটাচ করে নেন, তাহলে আপনি অল ডে লং ব্যাটারি লাইফ নিয়ে আর কোনো টেনশন করা লাগবে না। এবার আসি অনেক বড় একটা রিজন টু বাই এন আইফোন ১২ এন্ড দ্যাট ইজ পারফরম্যান্স। আইফোন ১২ এর সবচেয়ে বড় স্ট্রেন্থ হলো এর এ১৪ বায়োনিক চিপ। আপনি যদি হার্ডকোর গেমার হন লাইক পাবজি, ফ্রি ফায়ারের মতো গেম রেগুলার খেলেন অথবা ভিডিও এডিটিং বা ফটো এডিটিং এর মতো গ্রাফিক্স ইনটেনসিভ কাজ করা হয়, তাহলে এই বাজেটে বাকি সব অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে আইফোন ১২ এর পারফরম্যান্স আপনাকে ইম্প্রেস করবে। এর কারণ আইওএস এর অপ্টিমাইজেশন। এর কারণে একটা আইফোন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করলেও এর পারফরম্যান্সে কনসিস্টেন্সি বজায় থাকে। আরেকটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আইফোন ১২ কিন্তু এখনো লেটেস্ট সফটওয়্যার আপডেট পাচ্ছে। অর্থাৎ ২০২৬ সালে এসেও আইফোন ১২ কিনে আপনি একদমই আউটডেটেড সফটওয়্যার ইউজ করতে হচ্ছে না। আর বর্তমানে ওয়ার্ল্ডওয়াইড চিপ শর্টেজের কারণে স্মার্টফোনের দাম যেই হারে বাড়তেছে, সেখানে এত কমে একটা ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের এক্সপেরিয়েন্স কিন্তু পাচ্ছেন আইফোন ১২ থেকে। তাই সবকিছু মিলিয়ে বলাই যায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা প্রাইস রেঞ্জে ইউজড মার্কেটে আইফোন ১২ এর ডিলটা একটা আনবিটেবল ডিল। কিন্তু একটা জিনিস মাথায় রাখবেন, ইউজড ফোন কেনার সময় হুট করে একটা ফোন কিনে ফেললেই হবে না। বাংলাদেশে ইউজড স্মার্টফোনের মার্কেটটা কিন্তু খুবই স্যাচুরেটেড। এখানে ভালো কোয়ালিটির একটা ইউজড আইফোন খুঁজে পাওয়া খুবই টাফ। তবে কেনার আগে যেই কয়েকটা জিনিস অবশ্যই খেয়াল রাখবেন তার মধ্যে ফোনের বডি, ক্যামেরা গ্লাস, ডিসপ্লের গ্লাস, সাইড ফ্রেম এই জিনিসগুলো খুব ভালোভাবে চেক করে নিবেন। সেকেন্ডলি ফোনের ডকুমেন্টস এন্ড অথেন্টিসিটি। ফোনের বক্সের আইএমইআই এর সাথে ফোনটা ম্যাচ করতেছে কিনা, ক্যাশ মেমো এভেইলেবল আছে কিনা, এই জিনিসগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমার পার্সোনাল সাজেশন হচ্ছে বক্স ছাড়া ইউজড ফোন একদমই কিনবেন না। এন্ড থার্ডলি ফোনের কোনো পার্টস চেঞ্জ করা হয়েছে কিনা সেটা চেক করবেন। বিশেষ করে ডিসপ্লে, ক্যামেরা মডিউল অথবা ব্যাটারি চেঞ্জ করা হয়েছে কিনা সেটা চেক করেন। কারণ ইউজড মার্কেটে অনেক রিফারবিশড অথবা রিপেয়ারড ডিভাইস থাকে। একটু সময় নিয়ে ভালোভাবে ভেরিফাই করে একটা আইফোন ১২ এর ফ্রেশ ইউনিট যদি কিনতে পারেন, অন্তত দুই থেকে তিন বছর আপনি নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারবেন। এন্ড আইফোন ১২ কেনার সর্বশেষ অ্যাডভান্টেজ হলো এর রিসেল ভ্যালু। বিষয়টা এভাবে দেখতে হবে। ধরেন আপনি আজকে একটা অ্যান্ড্রয়েড ফোন খুব কম প্রাইসে পারচেজ করলেন। কিন্তু দুই বছর পর আপনি যখন এটা সেল করতে চাচ্ছেন, এটার কোনো চাহিদাই নেই মার্কেটে। বাট আইফোনের ক্ষেত্রে এইটার ডিমান্ডটা কিন্তু সবসময় থাকে। আজকে কিনলে দুই বছর পরে সেল করতে চাইলেও ফোনের একটা চাহিদা থাকবে এন্ড আপনি একটা ভালো প্রাইসে সেলও করতে পারবেন। তাই ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা প্রাইস রেঞ্জে আপনার প্রায়োরিটি যদি হয় ক্যামেরা, পারফরম্যান্স এন্ড একটা বেটার রিসেল ভ্যালু, তাহলে আইফোন ১২ কিন্তু আপনার জন্য একটা লজিক্যাল চয়েস। তবে কেনার আগে অবশ্যই কন্ডিশন চেক করে একটা ভেরিফাইড সেলারের কাছ থেকে নিবেন। কারণ ইউজড মার্কেটের একটা খারাপ ডিল আপনাকে নানান ধরনের ঝামেলায় ফেলতে পারে।